26-march-er-itihash

২৬শে মার্চ এর ইতিহাস

২৬ শে মার্চ কি? এটি কেন পালন করা হয়? ২৬শে মার্চের ইতিহাস সম্পর্কে অনেকের ধারণা নেই। ২৬শে মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। অবশ্য আমাদের মধ্যে অনেকে স্বাধীনতা দিবন ও বিজয় দিবসের মধ্যে অনেকে এলো-মেলো করে থাকি। আজকে আমরা ২৬ মার্চ সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের অন্যতম একটি গৌরবময় দিন। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ইতিহাস এতোটা সহজ ছিল না। ৩০ লাখ শহীদের প্রাণ এবং  দুই লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগ ও লাখো বাঙ্গালীর প্রাণের বিনিময়ে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়। 

২৬ মার্চ এর তাৎপর্য

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস প্রতিটি বাঙালির কাছে তাৎপর্যপূর্ণ গর্বের বিষয়। এই দিনটি যেমন প্রতিটি বাঙালির জীবনে আনন্দ বয়ে নিয়ে আসে তেমনি মনে করিয়ে দেয় লাখো শহিদের কথা।যদিও আমরা এই দিনটিতে লাখো শহিদের হারিয়েছি তবুও আমরা তাদের স্মরণে এই দিনটি খুব আনন্দেরও গর্বের সাথে পালন করে থাকে। 

স্বাধীনতা মানে শােষণের নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি। এই মুক্তি যে কতটা তৃপ্তির সেটা শুধু বাঙালিরা বুজতে পারে, করণ আমাদের মতো আর কোন দেশ নেই যারা নিজেদের দেশের জন্য দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করেছে। এ দিনটি শুধু ঐতিহাসিক তাৎপর্যেই বহন করে না, বরং নবীন জাতি হিসেবে গড়ে ওঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করার দিন হিসেবেও অনন্যসাধারণ।  

স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস

বাংলাদেশের কিছু বিশেষ দিন রয়েছে যা বাঙালিরা গর্বের সাথে পালন করে থাকে। আর এই বিশেষ দিন গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি দিন হলো স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হওয়ার পরে দুটি ভিন্ন রাষ্ট্র গঠন হয় ভারত ও পাকিস্তান।পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান দুটি আলাদা রাষ্ট্র তৈরি হয়। আর ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তান, পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও সংঘর্ষ চালায়। 

আর যখন এই সংঘর্ষ চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে আসে তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, বাংলাদেশকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। কিন্তু এই স্বাধীনতা ঘোষণার আগের রাতে অর্থাৎ ২৫শে মার্চ পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানি বাঙ্গালীদের উপর নির্মমভাবে নির্বিচারে গণহত্যা চালায় যা অপারেশন সার্চলাইট নামে অভিহিত করা হয়।

পশ্চিম পাকিস্তানের কারাবন্দি থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বর্তমান বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষণা করেন। স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে ১৯৭১ সালের 26 মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।

অপারেশন সার্চলাইট

১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানিরা যেই গণহত্যা চালায় সেটিই হল অপারেশন সার্চলাইট। ২৫শে মার্চ রাত ১২ টার দিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরা পরিকল্পিত ভাবে বাঙ্গালীদের উপর গণহত্যা চালায়। এই অপারেশনটির মুল উদ্দেশ্য ছিল ২৬ মার্চ এর মধ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানির সব বড় বড় শহর গুলো দখল করে নেয়া এবং রাজনৈতিক ও সামরিক দলগুলোকে শেষ করে দেয়া। 

২৬ শে মার্চ কেন পালন করা হয়?

ইতিমধ্যে আমরা জেনে গেছি ২৬শে মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। আর এই দিনটি সকল বাঙ্গালীদের কাছে একটি গৌরব আনন্দের দিন। এবং একই সাথে শ্রদ্ধা ও বেদনার দিন।লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দিনটি পেয়েছি। 

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা ২৬শে মার্চের ইতিহাস সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। ২৬শে মার্চ আমাদের দেশকে স্বাধীন ঘোষণা করা হয়। এই স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে ও প্রায় ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ এই দিনটি অর্জন করতে পেরেছি। 

মূলত ৩০ লক্ষ শহীদের স্মরণে স্বাধীনতা অর্জনের দিন হিসেবে ২৬শে মার্চ পালন করা হয়। 

স্বাধীনতার ঘোষণা

১৯৭১ সালের শেষ প্রহরে অর্থাৎ ২৬ মার্চ ভোরবেলায় পাকিস্তানী সেনারা শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করার কিছুক্ষণ আগে তিনি বাংলাদেশ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করেন। যা পরবর্তীতে চট্টগ্রামে অবস্থিত ট্রান্সমিটার দিয়ে সারাদেশে প্রচার করা হয়। 

“এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যে যেখানেই থাকুন,যার কাছে যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়ান,বাংলার মাটি থেকে পাকিস্তানি সৈন্যদের  বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ  চালিয়ে যাবেন।”

শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ, ১৯৭১

আমি,মেজর জিয়া, বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির প্রাদেশিক কমাণ্ডার-ইন-চিফ, শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।

তৎকালীন সেনাপ্রধানমেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন। 

“আমি আরো ঘোষণা করছি যে, আমরা শেখ মুজিবুর রহমানের অধীনে একটি সার্বভৌম ও আইনসিদ্ধ সরকার গঠন করেছি যা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের সরকার জোট-নিরপেক্ষ নীতি মেনে চলতে বদ্ধপরিকর। এ রাষ্ট্র সকল জাতির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং বিশ্বশান্তির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আমি সকল দেশের সরকারকে তাদের নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।

শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার একটি সার্বভৌম ও আইনসম্মত সরকার এৰং বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাবার দাবিদার।”

১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ  রক্তক্ষয়ী দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

শেষ কথা

যদিও আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করছি। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার স্মৃতি এখনো রয়ে গেছে। তায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস বেশ আনন্দের সাথে উদযাপন করা হয়। শহীদদের স্মরণে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে উদযাপন শুরু হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, বেসামরিক, সাধারণ জনগণ সকলেই শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে আসে। এবং এই দিন সরকারি ছুটি থাকে। 

আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে যদি আপনাদের কোন ধরনের প্রশ্ন বা পরামর্শ থেকে থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই জানিয়ে দেবেন।

 

Default image
shipon al hasan
Articles: 10

Leave a Reply