রোজার সময় পানিশূন্যতা রোধে করণীয়

রোজার সময় পানিশূন্যতা রোধে করণীয়

আজকে আমরা রোজার সময় পানিশূন্যতা কেন হয়? এবং রোজার সময় পানিশূন্যতা রোধে করণীয় এইসব নিয়ে আলোচনা করবো।

রোজার ফজিলতঃ

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে রোজা। আল্লাহতালা আমাদের জন্য রোজাকে বাধ্যতামূলক করে  দিয়েছে। প্রতিটা মুমিন বান্দার জন্য রোজা ফরজ একটি এবাদত। আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য সারাদিন না খেয়ে রোজা রাখা হয়। রোজা জাহান্নাম থেকে বাঁচার একটি ঢাল হিসাবে কাজ করে।  যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন রোজা রাখবে আল্লাহ তাআলা তার ও জাহান্নামের মাঝে একটি পরিখা তৈরি করে দেন। যা আকাশ ও জমিনের দূরত্বের মতো। (তিরমিজি : ১৬২৪)

আবু উমামা বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে এমন একটি কাজের নির্দেশ দিন যার দ্বারা আমি জান্নাতে প্রবেশ করব। তিনি বললেন: ‘তোমার জন্য অপরিহার্য হলো রোজা রাখা। কেননা এর কোনো তুলনা নেই’। তিনি তার বাড়িতে মেহমান বাতিতো কোনদিন রোজা রাখা বাদ দেননি। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৩৪২৫)

আল্লাহ তাআলা আমাদের রমজানে বেশি থেকে বেশি নেক আমল করার ও তৌফিক দান করুন।

পানিশূন্যতা পূরণে যা করবেন-

রোজা রাখার কারণে দীর্ঘ ১৫-১৬ ঘন্টা পানি পান না করে থাকতে হয়। আর সারাদিন না খাওয়ার জন্য অনেকের শরীরে পানি শূন্যতা ও দুরবলতা লক্ষ করা যাই। রোজা রেখে সারাদিন কাজ করা হয়। তার সঙ্গে রোদের অতিরিক্ত তাপ সব মিলিয়ে পানিশূন্যতা চরম একটা আকার ধারণ করে। চলুন দেখে আসি কি কি করলে পানিশূন্যতা পুরন হতে পারে।

১. ইফতারে অন্যান্য শরবতের সঙ্গে প্রতিদিন এক গ্লাস ডাবের পানি পান করতে পারেন। ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম থাকে। যা শরীরের জন্য অনেক উপকারি।

২. স্যালাইন ও তরল জাতীয় খাবার যেমন লেবুর শরবত খেতে পারেন।

৩. সালাত জাতীয় খাবার খেতে পারেন যেমনঃ শসা, গাজর, আম, পেঁপে, ইত্যাদি। এগুলো আপনার শরীরকে সতেজ করতে সাহায্য করবে।

৪. পানির সাথে সামান্য পরিমান মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। যা পানি পানিশূন্যতা সাথে সাথে ত্বককে ভালো রাখবে।

যা থেকে বিরত থাকবেন-

১. স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে রমজান মাস আসলে আমরা ভাজাপোড়া তেল জাতিয় খাবার বেশি খেয়ে থাকি। এসকল ভাজাপোড়া খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে।

২. রোজার মধ্যে অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার বর্জন করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত লবণ দেহ থেকে পানি শুষে নেয় যা দেহের পানির চাহিদা বাড়িয়ে দেয়।

৩. অনেকেই আছে যারা সেহেরিতে চা-কফি পান করে এসব পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

৪. রমজান মাসে অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়াও শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

৫. পটাশিয়মযুক্ত খাবার সেহরি ও ইফতারে বেশি করে খেতে হবে।এটি পানির স্বল্পতাকে দূর করে।

 

পানিশূন্যতার লক্ষণ

শরীরে পানির ঘাটতি হলে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা তৈরি হয়। পানিশূন্যতা হলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু সমস্যা হল।

১. মাথা বেথাঃ

শরীরে পানির ঘাটতি হলে মাথা ব্যথা হতে পারে। পানিশূন্যতার কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেন ও রক্ত প্রবাহ কমে যায় যার কারণে মাথাব্যথা সৃষ্টি হয়।

২. মনোযোগের অভাবঃ

মানুষের শরীরের শতকরা ৯০ ভাগই পানি। তাই পানির অভাব হলে মস্তিষ্কের বিপুল প্রভাব পড়ে, পানিশূন্যতার হবে মেজাজ খিটখিটে ও সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হয়।

 

বাড়তি সতর্কতা

এতক্ষণ আমরা রোজার সময় পানিশূন্যতা রোধে করণীয় কাজগুলো নিয়ে আলোচনা করলাম। রোজার সময় আমাদের একটু বারতি সতর্ক থাকা উচিত। রোজার এই একটি মাস খাওয়া-দাওয়ার অনেক সমস্যা হয়। রোজার মাসে একটু সতর্কভাবে চললেই আমরা পানিশূন্যতা থেকে বাঁচতে পারি। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত দৈনিক কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন যাতে সারাদিনের পানির ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। ইফতারের পরে একসাথে অতিরিক্ত পানি পান করা উচিত নয়, অল্প অল্প করে তৃষ্ণা অনুযায়ী পানি পান করুন। ইফতার ও সেহরীর ফল ও শাকসবজি খাওয়া উচিত যাতে শরীর সঠিকভাবে পুষ্টি উপাদান পায়। আর শাকসবজি ও ফলে প্রচুর আশ থাকে যা পানিশূন্যতা থেকে রাখা করে।

Default image
shipon al hasan
Articles: 10

Leave a Reply