শবে বরাতের ফজীলত

শবে বরাতের ফজীলত

শবে_বরাতের_ফজীলত:

নিম্নে শবে বরাতের ফজীলত এর ব্যাপারে বর্ণিত কিছু হাদীস উল্লেখ করা হল,

(১) নং হাদীস:

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رضي الله تعالی عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: يَطْلُعُ اللَّهُ إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ

অর্থ: হযরত মুআ’য বিন জাবাল রা. রাসূল সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তা’আলা মধ্য শা’বানের রজনীতে তার সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন। অত:পর মুশরিক ও বিদ্বেষপোষনকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন। (দেখুন: সহীহ ইবনু হিবক্ষান হা: নং ৫৬৬৩ প্রকাশ: মুআছছাছাতুর রিসালাহ, আল-মু’জামুল কাবীর নং ১৬৬৩৯ প্রকাশ: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, শুআ’বুল ঈমান হা: নং ৩৮৩৩ প্রকাশ: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, হিলয়াতুল আওলিয়া খ.৫ পৃ.১৯১ প্রকাশ: দারুল কিতাবিল আরবী)

 

হাদীসের হুকুম: উক্ত হদীসের বর্ণনাকারী সককলেই সিক্বাহ বা নির্ভরযোগ্য। এবং হাদীসে মুআ’নআনের ব্যাপারে ঈমাম মুসলিমের মাযহাব (যা জমহুরে উম্মাতের মাযহব) মতে সনদটি নিরবিচ্ছিন্ন। ঈমাম বায়হাক্বী রহ. বলেন, وقَدْ رُوينَا هذا مِنْ أوْجَهٍ وَفي ذلك دَلَالَةٌ على أنَّ لِلْحَدِيْثِ أصْلاً مِنْ حَدِيثِ مَكْحُول “হাদীসটি আমাদের নিকট বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে যা একথার উপর বুঝায় যে, মাকহুল থেকে হাদীসটির মজবূত ভিত্তি রয়েছে”। এজন্যই ইবনু হিবক্ষান রহ. হাদীসটি তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেন।

 

একটি সন্দেহ ও তার নিরসন: কেউ কেউ উক্ত হাদীসের সনদের দুজন রাবী মাকহুল ও মালেক বিন ইউখামের এর মাঝে ইনক্¦িতা’ তথা বিচ্ছিন্নতা সাব্যস্থ করেছেন। এবং বলেছেন, ঈমাম যাহাবীর মতে মাকহুল মালেক বিন ইউখামের থেকে শ্রবণ করেননি। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা খ.৫ পৃ.১৫৮ প্রকাশ: মুআছছাছাতুর রিসালাহ) তবে সঠিক কথা হল, মাকহুল ১১২ হিজরী বা তার পরে ইন্তিকাল করেন। (সিয়ার খ.৫ পৃ.১৫৯) আর মালেক বিন ইউখামের ৭০ হিজরীতে ইন্তিকাল করেন। তার মৃত্যুর সময় মাকহুলের বয়স বিশের কোঠায় ছিল বলে প্রবল ধারণা হয়। কাজেই তার সাথে মাকহুলের সাক্ষাত ও শিক্ষা গ্রহণ অসম্ভব নয়। অন্যদিকে ঈমাম যাহাবী রহ.ও একথা দৃঢতার সাথে বলেননি। বরং তিনি ধারনা করে বলেছেন।

তথাপি যদি মেনেও নেওয়া হয় যে, মাকহুল এবং মালেক বিন ইউখামেরের মাঝে বিচ্ছিন্নতা আছে। তবুও হাদীসের বহু সামর্থক হাদীস থাকায় তা পারিভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে হাসান তথা গ্রহণযোগ্য।

ঈমাম মুনযিরী, ইবনে রজব হাম্বলী, নুরুদ্দীন হায়সামী ও যুরক্বানী র. সহ বহু হাদীস বিশারদ ঈমামগণ উক্ত হাদীসকে আমলযোগ্য বলেছেন।

(দেখুন: আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব খ. ২ পৃ. ৫১, লাতায়িফুল মাআরিফ পৃ. ১৩৬, মাজমাউয যাওয়ায়িদ খ. ৮ পৃ. ৭৭, শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়্যাহ খ. ১০ পৃ. ৫৬১ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ)

শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

(আলবানীর তাহক্বীককৃত আস্-সুন্নাহ কিতাবের টীকা দ্রষ্টব্য হা: নং ৫১০)

(৩) নং হাদীস:

عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: “إِذَا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ يَطَّلِعُ اللَّهُ عَزَّ وجل إلى خلقه فيغفرلِلْمُؤْمِنِينَ وَيَتْرُكُ أَهْلَ الضَّغَائِنِ وَأَهْلَ الحقد بحقدهم”

অর্থ: আবূ সা’লাবা আল-খুশানী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, যখন মধ্য শা’বানের রাত আসে, তখন আল্লাহ তা’আলা তাঁর সৃষ্টি জীবের প্রতি (রহমতের) দৃষ্টি দেন । অত:পর মূমিনদেরকে মার্জনা করে দেন। আর হিংসা-বিদ্বেষ ও পরশ্রীকাতরতায় লিপ্তদেরকে তাদের অবস্থায় ছেড়ে দেন।

(দেখুন: আস সুন্নাহ খ.১ পৃ. ২২৩ হা: নং ৫১১, শুআ’বুল ঈমান খ.৩ পৃ.৩৮১ হা: নং ৩৮৩২, আল-আ’রশ পৃ. ৪৮৬ হা: নং ৮৭, মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা: নং ১২৯৬২, শরহু উসুলি এ’তেক্বাদি আহলিস সুন্নাহ হা: নং ৭৬০)

হাদীসের হুকুম: উক্ত হাদীসের সূত্রে একজন বর্ণনাকারী আহ্ওয়াস বিন হাকীম এর দুর্বলতার কারণে সূত্রটি দুর্বল। তবে তার সমর্থক আরো বহু হাদীস থাকায় হাদীসটি হাসান তথা গ্রহণযোগ্য। শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী বলেন, হাদীসটি তার শাওয়াহেদের মাধ্যমে সহীহ (আস সুন্নাহ এর টীকা দ্রষ্টব্য হা: নং ৫১১)। এছাড়াও হাদীসটি আবূ সা’লাবা রা. থেকে ঈমাম বায়হাক্বী ও ত্বাবরানী মাকহুলের সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাক্বী রহ. বলেন, হাদীসটি মুরসালরূপে শক্তিশালী।

(৪) নং হাদীস:

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله تعالی عنه ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم

قَالَ: ” يَطَّلِعُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى خَلْقِهِ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِعِبَادِهِ إِلَّا لِاثْنَيْنِ: مُشَاحِنٍ، وَقَاتِلِ نَفْسٍ “

অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আ’স রা. বলেন রাসূল সা. বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা মধ্য শা’বানের রাতে তার সৃষ্টির প্রতি (রহমতের) দৃষ্টি দেন। অত:পর বিদ্বেষপোষণকারী ও খুনী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন।

(দেখুন: মুসনাদে আহমাদ খ. ১১ পৃ. ২১৬ হা: নং ৬৬৪২ প্রকাশ: মুআছছাছাতুর রিসালাহ)

হাদীসের হুকুম: বর্ণিত সূত্রে ইবনে লাহীআ’ ব্যতীত সকল বর্ণনাকারী সিক্বাহ ও নির্ভরযোগ্য। যেমনটি নুরুদ্দীন হাইসামী রহ. বলেছেন।

(মাজমাউয যাওয়ায়েদ খ.৮ পৃ.৭৮ হা:নং ১২৯৬১ দ্রষ্টব্য)

তবে প্রসিদ্ধ শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী বলেন, হাদীসটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে ইবনু লাহীআ’ একক নয়, বরং তার উস্থাদ থেকে রিসদীন বিন সা’দ বিন হুয়াই নামক একজন রাবীও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যা ইবনে হায়ূয়াহ তার হাদীসে উল্লেখ করেছেন। (সিলসিলাতুস সহীহা খ.৩ পৃ.১৩৬) সুতরাং পারিভাষিক দৃষ্টিকোণে হাদীসটি হাসান তথা গ্রহণযোগ্য।

(৫) নং হাদীস:

عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصديق رضي الله تعالی عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : يَنْزِلُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لِكُلِّ نَفْسٍ إِلا إِنْسَانٍ فِي قَلْبِهِ شَحْنَاءٌ أَوْ مشرك بالله عز وجل”

অর্থ: আবূ বকর সিদ্দীক রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, মধ্য শা’বানের রজনীতে আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন। অত:পর তাঁর বান্দাদের মধ্যে র্শিকে জড়িত অথবা নিজ ভায়ের প্রতি বিদ্বেষপোষণকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন।

(দেখুন: মুসনাদুল বাযযার হা: নং ৮০, ‘আস সুন্নাহ’ লিইবনি আবি আ’সেম পৃ.২২২ হা:নং ৫০৯, ইবনে খুযাইমা কৃত ‘আত্-তাওহীদ’ হা: নং ৪৮)

হাদীসের হুকুম: ঈমাম মুনযিরী রহ. হাদীসটির সনদকে গ্রহণযোগ্য বলেছেন। (আত তারগীব ওয়াত তারহীব খ.২ পৃ.৫১) বর্ণিত সূত্রে আব্দুল মালিক বিন আব্দুল মালিকের সনদটি দুর্বল। তবে তার সমর্থক হাদীস থাকায় হাদীসটি হাসান। ঈমাম বাযযার রহ. বলেন, আহলে ইল্ম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং গ্রহণ করে নিয়েছেন। (মুসনাদুল বাযযার খ.১ পৃ.২০৬)

(৬) নং হাদীস:

عَنْ أَبِي هريرة رضي الله تعالی عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إذا كان لَيْلَةُ النِّصفِ من شَعْبَان يَغْفِرُ الله لِعِبَادِه إلا لمشْركٍ أو مُشَاحِنٍ.

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরা রা. রাসূল সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন মধ্য শা’বানের রাত্রি আসে তখন আল্লাহ তা’আলা মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন।

(মুসনাদুল বাযযার খ.১৬ পৃ.১৬১ নং ৯২৬৮ প্রকাশ: মাকতাবাতুল উলূমি ওয়াল হিকাম)

হাদীসের হুকুম: উক্ত হাদীসের একজন বর্ণনাকারী হিশাম। তিনি অজ্ঞাত হওয়াতে সনদটি দুর্বল। হাইসামী রহ. বলেন, হিশামের পরিচয় জানা যায়না, বাকি সকল রাবী সিক্বাহ (মাজমাউয যাওয়ায়েদ)। তবে হাদীসটির বহু সমর্থক হাদীস থাকায় তা হাসান তথা গ্রহণযোগ্য।

৭ নং হাদীস:

عَنْ عَوْفٍ رضي الله تعالی عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ্রيَطَّلِعُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَلَى خَلْقِهِ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، فَيَغْفِرُ لَهُمْ كُلِّهِمْ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍগ্ধ

অর্থ: আউফ বিন মালিক রা. রাসূল সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তা’আলা মধ্য শা’বানের রজনীতে তার সৃষ্টির প্রতি (রহমতের) দৃষ্টি দেন। অত:পর মুশরিক ও বিদ্বেষপোষনকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন।

(দেখুন: মুসনাদুল বাযযার খ.৭ পৃ. ১৮৬ নং ২৭৫৪)

হাদীসের হুকুম: উক্ত হাদীসের সনদে ইবনে লাহীআ ও তার শায়খ আব্দুর রহমান দুর্বল তবে হাদীসের সমর্থক অন্যান্য হাদীস থাকায় তা শাস্ত্রিয় পরিভাষায় হাসান তথা গ্রহণযোগ্য।

(৮) নং হাদীস:

إنَّ عَائِشَةَ، رضي الله تعالی عنها قَالَتْ: قَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ يُصَلِّي فَأَطَالَ السُّجُودَ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ قَدْ قُبِضَ، فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ قُمْتُ حَتَّى حَرَّكْتُ إِبْهَامَهُ فَتَحَرَّكَ، فَرَجَعْتُ، فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ، وَفَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ، قَالَ: ” يَا عَائِشَةُ أَوْ يَا حُمَيْرَاءُ ظَنَنْتِ أَنَّ النَّبِيَّ خَاسَ بِكِ؟ “، قُلْتُ: لَا وَاللهِ يَا رَسُولَ اللهِ وَلَكِنِّي ظَنَنْتُ أَنَّكَ قُبِضْتَ لِطُولِ سُجُودِكَ، فَقَالَ: ” أَتَدْرِينَ أَيَّ لَيْلَةٍ هَذِهِ؟ “، قُلْتُ: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: ” هَذِهِ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَطْلُعُ عَلَى عِبَادِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِلْمُسْتَغْفِرِينَ، وَيَرْحَمُ الْمُسْتَرْحِمِينَ، وَيُؤَخِّرُ أَهْلَ الْحِقْدِ كَمَا هُمْ “

অর্থ: হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘসেজদা করেন যে, আমার ধারণা হল যে, তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। অত:পর যখন তিনি সেজদা থেকে মাথা উঠালেন এবং নামায থেকে ফারেগ হলেন তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা; অথবা বলেছেন হে হুমাইরা; তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করছে? আমি উত্তরে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ খোদার কসম এমনটি নয়, কিন্তু আপনার দীর্ঘসেজদা থেকে আমার এই আশঙ্কা হয় যে, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন। নবীজী জিঙ্গেস করলেন, তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। রাসুলুল্লাহ সা. তখন ইরশাদ করলেন, ইহা অর্ধ শা’বানের রাত (শা’বানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত)। আল্লাহ তা’আলা অর্ধ শা’বানের রাতে তার বান্দার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন। অত:পর ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষপোষণকারীদেকে আপন অবস্থাতেই ছেড়ে দেন। (দেখুন: শুআ’বুল ঈমান বাইহাকী খ.৩পৃ. ৩৮২ নং ৩৮৩৫)

হাদীসের হুকুম: ঈমাম বায়হাক্বী রহ. হাদীসটি বর্ণনার পর সনদের ব্যাপারে বলেন, هذا مرسل جيد এটি একটি উত্তম মুরসাল হাদীস।

(৯) নং হাদীস:

عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله تعالی عنها قَالَتْ: فَقَدْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَخَرَجْتُ أَطْلَبُهُ، فَإِذَا هُوَ بِالْبَقِيعِ رَافِعًا رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ، فَقَالَ: ” يَا عَائِشَةُ أَكُنْتِ تَخَافِينَ أَنْ يَحِيفَ اللهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ؟ “، قَالَتْ: قُلْتُ: وَمَا بِي مِنْ ذَلِكَ، وَلَكِنِّي ظَنَنْتُ أَنَّكَ أَتَيْتَ بَعْضَ نِسَائِكَ، فَقَالَ: ” إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لِأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ كَلْبٍ “

অর্থ: আয়েশা রা. থেক বর্ণিত তিনি বলেন, একদা রাত্রিবেলা আমি রাসূল সা.কে খুজে পেলামনা। তখন বের হয়ে দেখি তিনি (জান্নাতুল) বাক্বি’তে আকাশের দিকে মাথা উচু করে আছেন। অত:পর তিনি বললেন, হে আয়েশা তুমি কি আশঙ্কা করছিলে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার প্রতি জুলুম করবেন ! আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল আমি ধারনা করছিলাম যে, আপনি আপনার অন্য কোন স্ত্রীর নিকট গমন করেছেন। তখন তিনি বললেন, মহান আল্লাহ মধ্যশা’বানের রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন। অত:পর ‘কাল্ব’ গোত্রের মেষ পালের পশমের সংখ্যার চেয়েও অধিক লোককে ক্ষমা করে দেন। (দেখুন: শুআ’বুল ইমান বায়হাক্বী খ.৩ পৃ.৩৭৯ নং৩৮২৫, ইবনে মাজাহ নং১৩৮৯, তিরমিযী নং৭৪৯ মুসনাদে আহমাদ নং২৬০১৮)

হাদীসের হুকুম: উক্ত হাদীসের সূত্রে বিচ্ছিন্নতা ও কিছু রাবির দুর্বলতা রয়েছে। তবে ঈমাম বায়হাক্বী রহ. হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, وَلِهَذَا الْحَدِيثِ شَوَاهِدٌ مِنْ حَدِيثِ عَائِشَةَ، وَأَبِي بَكْر الصِّدِّيقِ، وَأَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ، “উক্ত হাদীসের বহু সমর্থক হাদীস রয়েছে, যার কিছু হযরত আয়েশা, আবূ বকর ছিদ্দীক ও আবূ মূসা আশ’আরী রা. বর্ণনা করেছেন”। সূতরাং মুহাদ্দিসীনদের পরিভাষানুযায়ী হাদীসটি হাসান তথা গ্রহণযোগ্য

“মাহমুদুল হাসান রাহাত”

read more

Default image
Saiful Islam
Articles: 14

Leave a Reply