কম্পিউটারের-মৌলিক-ধারণা---The-basic-concept-of-computer

কম্পিউটারের মৌলিক ধারণা – The basic concept of computer

কম্পিউটারের মৌলিক ধারণা – The basic concept of computer

"<yoastmark

কম্পিউটার হচ্ছে একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র,যার মাধ্যমে খুব সহজে এবং অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বড় গাণিতিক হিসাব সহ বিভিন্ন ধরনের যুক্তি ও সিদ্ধান্তমূলক কার্যবলী সম্পাদন করা যায়। ( কম্পিউটার -computer) শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ থেকে যার অর্থ গননাকারী জন্য কম্পিউটারের আভিধানিক অর্থ গননাকারী যন্ত্র

সবাইকে স্বাগতম muktokosh.com– বাংলাদেশের অন্যতম টেকব্লগ এ। আসা করি সবাই ভালো আছেন। আপনারা হয়তো টাইটেল দেখে বুঝে গিয়েছেন আমরা কি নিয়ে কথা বলতে চলেছি ।  তাহলে চলুন দেরি না করে চলে যাই আমাদের আলোচ্য বিষয়ে ।

আমাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে

কম্পিউটার কি কি নিয়ে গঠিত? – What’s in a computer?

আমরা যা লিখি তাই কি বুঝতে পারে ? – Do we understand what we write?

তথ্য কোথায় জমা থাকে? – Where is the information stored?

এমন আরো অনেক প্রশ্ন আমাদের মনে আসে ।

 

চিন্তার কোন কারন নেই , muktokosh.com এর সাথে থাকুন আসা করি আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন । চলুন কথা না বারিয়ে আপনাদের প্রশ্নের উত্তর গুলো দেওয়া যাক ।

 

কম্পিউটার কি কি নিয়ে গঠিত? – What’s in a computer?

 

আমরা অনেকেই জানি কম্পিউটারে কি কি যন্ত্র থাকে । বর্তমানে এমন কোনো মানুষ খুজে পাওয়া যাবে না, যে কম্পিউটার নাম শুনেনি। কম্পিউটার আমাদের প্রতিটি কাজের সাথে জড়িত বলা যেতে পারে । পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপনের ব্যানার তৈরি করা, অনেক জটিল কাজ আমরা বর্তমানে খুব সহজে ও সুন্দর ভাবে অল্প সময়ের মধ্যে করে ফেলতে পারি ।

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার ছাড়া জীবন যাপন করা প্রয় অসম্ভব ও বলা যেতে পারে। আমরা অনেকে কম্পিউটার বলতে বুঝি শুধু কী-বোড, মাউস, মনিটর। কম্পিউটারে কি কি যন্ত্র থাকে তা কি ভাবে গঠিত হয় তা আমরা অনেকেই জানিনা। তাদের জন্য নিম্নে কম্পিউটারের গঠন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো ।

কম্পিউটার দুইটি উপাদান দিয়ে গঠিত হয় ।

১. হার্ডোয়্যার।

২. সফটোয়্যার।

হার্ডওয়্যারঃ কম্পিউটারের যেসব যন্ত্রপাতিকে আমরা হাত দিয়ে স্পর্শ করতে পারি সেই সমস্থ যন্ত্রপাতিকেই কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার বলা হয় । যেমন মনিটর, কি-বোর্ড, মাউস, স্পিকার, মাদারবোর্ড, রেম , প্রসেসর, গ্রাফিক্সকার্ড, হার্ডডিস্ক, পাওয়ার সাপ্লাই ইত্যাদি।

কম্পিউটারের এই হার্ডওয়্যার গুলো আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে ।

১. ইনপুট।

২. অউটপুট।

ইনপুটঃ কম্পিউটারের যে সকল যন্ত্রপাতি দিয়ে কম্পিউটারের ভিতরে আমরা কোন তথ্য প্রদান করি সেই গুলোকেই কম্পিউটারের ইনপুট বলা হয়। যেমন – কি-বোর্ড, মাউস, ডিভিডি ড্রাইব, ইউসবি পোর্ট, স্ক্যানার, ইন্টারনেট ল্যান কানেকশন ইত্যাদি ।মূল কথা যে গুলোর সাহায্যে আমরা কোন তথ্য কে ইনপুট করি তাদেরকে কম্পিউটারের ইনপুট অংশ বলা হয়।

অউটপুটঃ কম্পিউটারের যে সকল যন্ত্রপাতির মাধ্যমে আমরা তথ্য গ্রহন করে থাকি সেই সকল যন্ত্রপারিকেই কম্পিউটারের আউটপুট বলা হয়। যেমন মনিটর, স্পিকার, প্রিন্টার ইত্যাদি।

সফটোয়ারঃ কম্পিউটারের সফটওয়্যার না থাকলে শুধু হার্ডোয়্যার দিয়ে কোন কাজই করা সম্ভব নয় । এমন কি কম্পিউটারে নতুন কোন হার্ডোয়্যার যুক্ত করতে চাইলেও সেটি চালানোর জন্য নির্দিস্ট একটি ড্রাইভার সফটওয়্যার প্রয়োজন পরে।

কম্পিউটারের প্রধান সফটওয়্যারটি হলো উইন্ডোস। উইন্ডোসকে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম বা মস্তিস্ক বলা হয়। আমরা যখন কোন নতুন কম্পিউটার কিনি সেটাতে প্রথম যে সফটওয়্যার দেওয়া হয় সেটি হলো ইউন্ডোস।

এর পরে আমরা কম্পিউটার দিয়ে যেই কাজ করতে চাই, সেই সমস্ত কাজের কন্য আলাদা আলাদা সফটোইয়্যার ইনস্টল করতে হয় যেমন- মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, গুগল ক্রোম ইত্যাদি।

 

 

কম্পিউটারের ভাষা কী? আমরা যা লিখি তাই কি বুঝতে পারে ? – What is computer language? Do we understand what we write?

আমাদের অনাকেই জানি না কম্পিউটারের ভাষা কি ? আমরা ভাবি কম্পিউটার কি আমাদের লেখা ভাষা বুঝতে পারে না তা অন্য ভাবে অন্য ভাষায় রূপান্তর করে বুঝে ইত্যাদি। আমরা এই সকল প্রশ্নের উত্তর আজ জানবো-

কম্পিউটার শব্দটি গ্রীক শব্দ থেকে এসেছে। গ্রীক শব্দ Compute থেকে এই কম্পিউটার শব্দের উৎপত্তি। এই যন্ত্রর আছে নিজস্ব ভাষা । এই ভাষার আর এক নাম- মেশিন ভাষা। মেশিন ভাষার সাহেয্যেই এর কমান্ড পরিচালিত হয় । কম্পিউটারে মুলত গানিতিক যুক্তি ও সিদ্ধান্তমুলক কাজকর্ম করা যায়। মানুষের দেয়া কমান্ডের ভিত্তিতে কম্পিউটার  খুব দ্রুত সঠিকভাবে কোন কার্য সম্পদান করেতে পারে আর নির্ভুল ভাবে ফলাফল প্রদান করতে পারে।

মানুষ, কম্পিউটারকে যতটুকু স্মৃতি,বুদ্ধি ও ক্ষমতা দিয়ে তৈরি করবে কম্পিউটার ঠিক ততটুকু স্মৃতি ও ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারবে। কম্পিউটার তার স্মৃতিতে কি পরিমান ডাটা বা তথ্য ধরে রাখতে পারবে তা নির্ভর করে মানুষ তার স্মৃতি বা মেমোরিকে কি ভাবে তৈরি করেছে তার উপর।

কম্পিউটারের ভিতরে রয়েছে অসংখ্য ইলেকট্রনিক সার্কিট। বর্ত্মানে কম্পিঊটারের রয়েছে বিপুল ক্ষমতা। তবে এই ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হলে তাকে সঠিক ভাবে কাজের নির্দেশনা দিতে হবে। এই সকল নির্দেশনাকে বলা হয় প্রোগ্রাম। যা কম্পিউটারের মেমোরিতে সংরক্ষিত থাকে। কম্পিউটার তার প্রোগ্রাম অনুযায়ী কাজ করে আর অর্থপূর্ণ ফুলাফল মনিটরে প্রকাশ করে ।

কম্পিউটারের রয়েছে নিজস্ব ভাষা । গানিতিক সংখার নির্দিষ্ট কিছু অংক এর ভাষা হিসেবে পরিনিত। কম্পিউটারে বাইনারি সংখা ব্যবহৃত হয়। বাইনারি পদ্ধতিতে ০ আর ১ এই দুটো অংক মাত্র ব্যবহার হয়। এজন্য একে দ্বিমিতিক সংখ্যাও হলা হয়ে থাকে।

এটি একটি পজিশনাল সংখা পদ্ধতিও বটে। এই পদ্ধতির বেজ বা ভিত্তি- ২ । আবার এই পদ্ধতিতে ব্যাব ব্যবহৃত ০বা ১ অংককে সংক্ষেপে বিট বা বাইনারি ডিজিট বলে।  বাইনারি পদ্ধতিতে সহজভেবে সবকুছু গননা করা যায়। এই পদ্ধতিতে ০ ও ১ বিট দুটোকে সহজে ইলেকপ্ট্রনিক উপায়ে নির্দিষ্ট করা সম্ভব। তাই বিশেষ ভাবে এই বাইনেরি পদ্ধতি ব্যাবহার করা হয় । ফলে এই যন্ত্র নির্ভুল ফলাফল দিতে সক্ষম হয়।

কম্পিউটার বা অন্য যে কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইস নীচের দুটো অবস্থা সহজেই বুঝতে পারে। যেমন-

 

Level , একে  off, false, low or no ইত্যাদি

Level 1, একে on, true, high or yes ইত্যাদি।

 

কম্পিউটার ডিজাইনে বাইনারি ডিজিট ব্যাবহারের কিছু কারন। প্রত্যেক ডিজিটাল ইলেকট্রনিক ডিভাইস, বাইনারি পদ্ধতিতে কাজ করে ।

বাইনারি পদ্ধতিতে মাত্র দুটো অবস্থা থাকয় ইলেকট্রনিক সার্কিটের ডিজাইন খুব সহজে হ্যে থেকে। এ সকল কারনে কম্পিউটারে বাইনারি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

দশমিক সংখা যেমন-০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ ইত্যাদি প্রত্যাহিক জীবনে প্রয়োজন হয় বেশি। কিন্ত কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ইলেকট্রিক্যাল সিগনালের সাহায্যে কাজ করে। এই ইলেকট্রিক্যাল সিগনালিং এর দশমিক সংখার চেয়ে বাইনারি ডিজিট পদ্ধতিতে সহজেই ইলেকট্রিক্যাল সিগনালের সাহায্যে প্রকাশ করা যায়। বাইনারি সংখা মেশিন ভাষা হিসাবে কাজ করে। বাইনারি সংখার উদাহারন হলো- ০,১,১০,১১,১০০,১০১,১১০,১১১,১০০০,১০০১,১০০০,১০০০১ ইত্যাদি।

 

কম্পিউটারের কোথায় তথ্য থাকে?-Where the computer has information?  

কম্পিউটারে যে তথ্য ঢোকানো হয়, তা জমা থাকে তার স্মৃতি বা মেমোরিতে।  আর এই মেমোরিকে ROM বলা হয় । এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে এই ROM টা আবার কি ? তা হলে চলুন এই ROM সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক –

Rom এর পূর্ণরূপ হল Read only memory (রেড অনলি মেমোরি) একটি কম্পিউটারের Primary memory এর একটি অংশ। Rom হল non volatile memory এর অর্থ হল রম একটি অস্থিতিশীল মেমোরি অর্থাৎ Rom এমন এক ধরনের স্টোরেজ যা স্থায়ীভাবে তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে। … Rom এ যে নির্দেশাবলী সংরক্ষিত থাকে তা কম্পিউটার চালু হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়।

রম হলো আপনাদের কম্পিউটারের একটি stoeage memoey, যেখানে বিভিন্ন ধরনের programming software  রাখা হয়। রম এ রাখা এই ধরনের সফটওয়্যার গুলির বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, কম্পিউটার কে নির্দেশ দেওয়ার জন্য ব্যাবহার হয় । রম এ যেকোন firmware software গুলি pre-install করে রাখা হয়।

কম্পিউটারের ক্ষেতে, যখন motherboard তৈরি করা হয়, তখন এই ধরণের সফটওয়্যার গুলি রম মেমরিতে ইনস্টল করে দেয়া হয়। তাই কম্পিউটার bios এবং  formware software  গুলি এই রম মেমোরিতে রাখা হয়। এবং স্থায়ী ভাবে কিছু জরুই সিস্টেম সফটওয়্যার ও ফার্মওয়্যার সফটওয়্যার গুলিকে চিরকালের জন্য স্টোর করে রাখা হলো রম এর কাজ ।

 

আগামিতে আমরা আরো কিছু সম্পর্কে পর্যায়ক্রমে জানবো – So stay tuned with techtrech😊

 

 

Default image
nazmul islam
Articles: 6

Leave a Reply